যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট অন্যরা হলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ।
তাদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে টেন্ডার দিয়ে কেনাকাটা, কর্মকর্তাদের বদলি-বাণিজ্য, নিয়োগ-পদোন্নতি-পদায়নসহ সুনির্দিষ্ট অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদক ইতোমধ্যে চার সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে বলে গতকাল বুধবার দুদক সূত্র জানিয়েছে।
দুদকের উপপরিচালক আক্তারুল ইসলাম বলেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বদলি-বাণিজ্য, নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত একটি অভিযোগ জমা পড়েছিল। পরে সেটি প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে সত্যতা পাওয়ায় কমিশন অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ কারণে দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে দুদক সূত্রে জানা যায়, জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বেআইনি কাজ হাসিলে ঘুষ গ্রহণ ও মানিলন্ডারিং-সংক্রান্ত অভিযোগ। এছাড়া বিদেশে অর্থপাচার এবং বেআইনি বিটকয়েন লেনদেনের অভিযোগও পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, স্বজনপ্রীতি ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ নিয়েও ভুক্তভোগীরা দুদকে অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।
সূত্র আরও জানায়, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা হওয়ার সুবাদে ক্রিকেট বোর্ড গঠনে সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের মাধ্যমে বিভিন্ন অবৈধ সুবিধা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।



