রাজধানীর বনানীতে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর থেকে মুখে স্কচটেপ লাগানো অবস্থায় উদ্ধার হওয়া লাশের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। নিহতের নাম ইসমাইল হোসেন (৪৮)। স্বজনদের দাবি, মেয়ের বিয়ে ও পারিবারিক ঋণ পরিশোধের জন্য জমি বিক্রি করে পাওয়া প্রায় পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে জামালপুর থেকে গাজীপুরে ফিরছিলেন তিনি। পথে দুর্বৃত্তরা টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তাকে হত্যা করে লাশ এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ফেলে গেছে বলে ধারণা পরিবারের।
শুক্রবার সকালে বনানীতে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন পথচারীরা। পরে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মুখে স্কচটেপ লাগানো অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে। প্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। শনিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে স্বজনেরা লাশটি ইসমাইলের বলে শনাক্ত করেন।
নিহতের ছেলে হাসান ঢামেক হাসপাতালের মর্গে সাংবাদিকদের জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার হবদেশ গ্রামে। বর্তমানে তারা গাজীপুরের কাশিমপুরের করলাপাড়া এলাকায় বসবাস করেন। তার বাবা আগে একটি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রায় নয় মাস আগে চাকরি ছেড়ে দেন তিনি।
হাসান বলেন, তার ছোট বোন শারমিনের বিয়ে ঠিক হয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের ওপর ঋণও ছিল। এসব কারণে প্রায় চার মাস আগে পরিবারের সদস্যদের গাজীপুরে রেখে একাই গ্রামের বাড়িতে যান ইসমাইল। সেখানে বসতভিটার ১১ শতাংশ জমি সাড়ে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। জমি বিক্রির টাকা থেকে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ঋণ পরিশোধ করেন এবং বাড়িতে ঘর নির্মাণ করেন। অবশিষ্ট প্রায় পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরে ফেরার কথা ছিল তার।
নিহতের ছেলে জানান, বৃহস্পতিবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার বাবার শেষ কথা হয়। ইসমাইল জানিয়েছিলেন, রাত ৩টার বাসে জামালপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাকে নিতে আশুলিয়ার জিরানী বাসস্ট্যান্ডে যান হাসান। সেখানে গিয়ে বাবার মোবাইল ফোনে কল করলে সেটি বন্ধ পান। পরে বাসায় ফিরে যান তিনি। এরপর শুক্রবার দুপুরে পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারেন, তার বাবার লাশ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ইসমাইলের ভাতিজা মো. মোকাদ্দেস বলেন, জামালপুর থেকে ইসমাইলের গাজীপুরে যাওয়ার কথা ছিল। এ ক্ষেত্রে তার ঢাকায় আসার কোনো কারণ ছিল না। পরিবারের ধারণা, পথে কোনো ছিনতাইকারী বা চক্র তার সঙ্গে টাকা থাকার বিষয়টি জানতে পেরে তাকে অপহরণ করে। পরে হত্যা করে টাকা নিয়ে লাশ এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ফেলে রেখে যায়।
তবে লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ জানিয়েছিল, ইসমাইল পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ছিলেন। লাশ উদ্ধারের সময় তার পরনে সিএনজিচালকদের ইউনিফর্মের মতো নীল রঙের শার্ট ও লুঙ্গি ছিল।
বনানী থানার এসআই নজরুল ইসলাম তালুকদার জানান, ইসমাইলকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন স্থানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত শেষে ইসমাইলের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।



