দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকাই চলচ্চিত্র থেকে দূরে রয়েছেন একসময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপি। অভিনয়ে ফেরার নানা গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে এবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আর কোনো সিনেমা, নাটক কিংবা বিজ্ঞাপনে অভিনয় করবেন না তিনি।
তবে নিজের জীবন নিয়ে নির্মিত মানসম্মত কোনো বায়োপিক হলে সেখানে অভিনয়ের কথা বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে পপি বলেন, অভিনয়ে ফেরার জন্য বিভিন্ন সময় নানা প্রস্তাব পেয়েছেন। এমনকি তাকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের আগ্রহও প্রকাশ করেছেন অনেক নির্মাতা। কিন্তু এখন আর নিয়মিত অভিনয়ে ফেরার কোনো ইচ্ছা নেই তার।
তিনি বলেন, ‘আমি আর সিনেমায় অভিনয় করতে চাই না। আমি আমার স্বামী ও একমাত্র সন্তান আয়াতকে নিয়ে সময় কাটাতে চাই। সুখী পারিবারিক জীবনই এখন আমার সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।’
তবে নিজের জীবনভিত্তিক একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হলে সেখানে অভিনয় করতে আগ্রহী পপি। তার ভাষায়, জন্ম থেকে বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা, ফটোসুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ, ব্যক্তিগত সংগ্রাম, চলচ্চিত্র জীবন এবং বর্তমান জীবনের নানা অধ্যায় যেন যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়। চিত্রনাট্য ও নির্মাণে সন্তুষ্ট হলেই কেবল তিনি সেই বায়োপিকে অভিনয় করবেন।
নব্বইয়ের দশক ও পরবর্তী সময়ে ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম শীর্ষ নায়িকা ছিলেন পপি। ১৯৯৭ সালে মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘কুলি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তার। এরপর একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন। ‘কারাগার’, ‘মেঘের কোলে রোদ’ ও ‘গঙ্গাযাত্রা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
পপিকে সর্বশেষ দেখা গেছে পরিচালক সাদেক সিদ্দিকীর ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ চলচ্চিত্রে। এরপর থেকে তিনি নতুন কোনো সিনেমায় অভিনয় করেননি। দীর্ঘ বিরতির পরও তার অভিনয়ে ফেরার বিষয়ে ভক্তদের আগ্রহ ছিল। তবে সর্বশেষ ঘোষণায় সেই সম্ভাবনা কার্যত শেষ করে দিলেন এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী। এখন পরিবারকে নিয়েই বাকি জীবন কাটানোর ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি।



