শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রত্যাবর্তন যেন আর না ঘটে, ট্রাইব্যুনালে দেয়া জবানবন্দিতে মাহমুদুর রহমান

দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান বলেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে ইটালি এবং জার্মানিতে ফ্যাসিস্ট শাসক মুসোলিনি এবং হিটলারের পতন হয়েছিলো যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর। জার্মানিতে সেই সময় জনগণ বিশেষ করে ইহুদি জনগোষ্ঠীর উপরে যে গণহত্যা চালানো হয়েছিলো সেই প্রেক্ষাপটে সারাবিশ্বে আওয়াজ উঠেছিলো ‘নেভার এ্যাগেইন’ অর্থ্যাৎ আর যেন কখনো হিটলারের মতো নিষ্ঠুর ফ্যাসিস্ট শাসকের আগমন না ঘটে। বাংলাদেশেও শেখ হাসিনার ১৫ বছরের চরম দুর্নীতি পরায়ন এবং মানবতাবিরোধী শাসনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের জনগনের প্রত্যাশা হলো আর যেন কখনো আমাদের দেশে এমন ফ্যাসিবাদি শাসনের প্রত্যাবর্তন না ঘটে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া সাক্ষ্যে এ কথা বলেন তিনি। মঙ্গলবার বিচারপতি মো. গোলাম মুর্তজা মজুমদারের নের্তৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল-১ এই জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি রেকর্ডে ট্রাইব্যুনালকে সহায়তা করেন চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম. তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, মো. মিজানুল ইসলাম প্রমুখ।
এদিকে আজ বুধবার শেখ হাসিনার মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষে সাক্ষ্য দেবেন এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম। গতকাল তিনি সাক্ষ্য দিতে ট্রাইব্যুনালে যান। কিন্তু মাহমুদুর রহমানের জেরা শেষ না হওয়ায় তিনি সাক্ষ্য দিতে পারেননি।
জবানবন্দিতে মাহমুদুর রহমান বলেন, জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবারগুলো একটি ন্যায় বিচার দেখার অপেক্ষায় রয়েছে। এর সঙ্গে আরো যে অন্তত ২০ হাজার আহত জুলাই যোদ্ধা চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন, তারাও ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের কমান্ড রেসপনসিবিলিটিতে যারা ছিলেন তাদের বিচার দেখতে চান। এই আসামিদের মধ্যে যারা সরাসরি হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন এবং যারা উক্ত হত্যাকান্ড ও নৃশংসতা বন্ধ করার কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেন নাই তারা সকলেই কমান্ড রেসপনসিবিলিটির আওতাভূক্ত।
তিনি বলেন, জুলাই গণহত্যার পর যখন এই ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হয়েছে আমি মনে করেছি রাষ্ট্রের একজন বর্ষীয়ান নাগরিক হিসেবে আমার কর্তব্য ট্রাইব্যুনালকে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় সর্বাত্বক সহযোগিতা করা। সেই সহযোগিতার অংশ হিসেবে আমি ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য প্রদান করছি। আমি চাই অপরাধীরা যেন সাজা পায়, শহীদ পরিবার, আহত জুলাই যোদ্ধা এবং তাদের পরিবার ন্যায় বিচারের মাধ্যমে তাদের শোক কিছুটা হলেও লাঘব হয়। এছাড়া ফ্যাসিস্ট শাসনের বিষয়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা গেলে ভবিষ্যতের সরকারসমূহ সতর্ক হবে বলে আমি প্রত্যাশা করি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যেভাবে বলা হয়েছিলো ‘নেভার এ্যাগেইন’ বাংলাদেশেও এই বিচারের মাধ্যমে নিশ্চিত হউক যেন গত ১৫ বছরের দুঃশাসনের পুনরাবৃত্তি আর না হয়। জবানবন্দি শেষে তাকে জেরা করেন পলাতক শেখ হাসিনা ও একেএম আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত কৌসুলি আমির হোসেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments