ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে দুই সাবেক জেনারেল পৃথক দুই মামলায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এদের মধ্যে লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে পল্টন থানায় দায়ের করা মানব পাচার আইনের মামলায় ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
অপরদিকে, আরেক জেনারেল ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে জুলাই-আগষ্ট অভ্যুত্থানকালে রাজধানীর মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে ডিবি জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
গতকাল শুক্রবার ছিল জেনারেল মামুনের জিজ্ঞাসাবাদের প্রথম দিন। ওয়ান ইলেভেন সময় ডিজিএফআইতে কর্মরত অবস্থায় রাজনৈতিক নেতাদের ওপর মানসিক নির্যাতনের বিষয়টি নিয়ে ডিবি কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।
এছাড়া ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের ওপর তার বিশেষ ভূমিকার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত তার আর্থিক দুর্নীতির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই সময় জেনারেল মামুন খালেদ ডিজিএফআইয়ের ডিজি ছিলেন।
ডিবি সূত্র জানায়, মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির ব্যবসার পাশাপাশি ওয়ান ইলেভেন কিছু প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে জেনারেল মাসুদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় প্রভাব ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখানো এবং নির্যাতনের সঙ্গে সম্পৃক্তদের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়েছে। তবে অধিকাংশ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাচ্ছেন জেনারেল মাসুদ।
গতকাল পর্যন্ত তার কাছ থেকে খুব বেশি তথ্য গোয়েন্দারা জানতে পারেননি। এছাড়া গত কয়েক বছরে তার বিদেশ ভ্রমণের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, মাসুদ উদ্দিনের কাছে জনশক্তি রপ্তানির নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়েছে। কারা কিভাবে এর সঙ্গে জড়িত ছিল সেটি আমরা বের করব।
শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, মাসুদ উদ্দিন ও মামুন খালেদকে এক সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের পরিকল্পনা এখনও নেই। কারণ তাদের দু’জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আলাদা।



