আইভরিকোস্টে ৩০ বাংলাদেশী দালার চক্রের হাতে জিম্মি

আফ্রিকা মহাদেশের দেশ আইভরিকোস্টে অধিক বেতন চাকরি দেয়ার প্রলোভনে ৩০ জনকে পাচার করার অভিযোগ উঠেছে এক্সিলেন্ট ড্রিম ওভারসিজ নামে একটি শ্রমিক পাঠানো এজেন্সীর বিরুদ্ধে। প্রত্যেকের কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা করে নেয় ওই এজেন্সী।

গত ৬ জানুয়ারি তাদেরকে আইভরিকোস্ট পাঠানো হয়। তাদেরকে চাকরি না দিয়ে দালাল চক্র আইভরিকোস্টের ঘন জঙ্গলের ভিতর একটি পুরাতন বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাদেরকে ঠিক মত খাবার সরবরাহ করা হয় না। উল্টো খাবারের জন্য বাংলাদেশ থেকে ফোন করে আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে আরো টাকা দাবি করা হচ্ছে। টাকা পাঠালেই খাবার মিলে। এরই মধ্যে জঙ্গলে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে কালাম নামে একজন মারা গেছেন।

এই ৩০ জনের মধ্যে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের মোস্তফা কামাল(৪৫) রয়েছেন। মোস্তফা গোপনে তার মেজো ভাই মাইন উদ্দিনের কাছে হোয়াটসআপে ম্যাসেজ দিয়ে বাঁচার আকুতি জানায়। যেভাবেই হোক তাকে যেন দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

বড় ভাইয়ের পাঠানো ম্যাসেজ নিয়ে মাইন উদ্দিন মঙ্গলবার রাজধানীর বিজয়নগরে আলীস টাওয়ারের অষ্টম তলায় এক্সিলেন্ট ড্রিম ওভারসীজ নামের প্রতিষ্ঠানে যান।

সেখানে প্রতিষ্ঠানটির সত্ত্বাধিকারী বদিউল আলম খানের সন্ধান করেন। প্রতিষ্ঠানটি থেকে বলা হয় যে আইভরিকোস্টে ৩০ জন শ্রমিক পাঠানোর ঘটনার পর থেকে বদিউল আলম খান তার প্রতিষ্ঠানে আর আসেন না। তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর বন্ধ করে রেখেছেন। এ ঘটনার পর মাইন উদ্দিন মঙ্গলবার রাতে পল্টন থানায় একটি জিডি করেন।

এ ব্যাপারে মাইন উদ্দিন বলেন, গত ৬ জানুয়ারি তার বড় ভাই মোস্তফা কামাল আইভরিকোস্ট রওনা দেন। প্রথমেই তাদেরকে ইথিওপিয়ায় নেয়া হয়। এরপর সেখান থেকে আইভরিকোস্টে নেয়া হয়। আইভরিকোস্টের গহীন জঙ্গলে একটি পুরাতন বাড়িতে মোস্তফা কামালসহ ৩০ জনকে রাখা হয়।

এরপর থেকে তাদের থাকা-খাওয়ার খরচ বাবদ দেশ থেকে টাকা আনতে বলে দালাল চক্রের সিন্ডিকেট। টাকা না দিলে খাবার দেয়া বন্ধ করে দেয় তারা।

তিনি বলেন, তারা ৪ ভাই ও দুই বোন। বাবা সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য। উন্নত জীবনের সন্ধানে বাড়ির জমি বিক্রি করে ৮ লাখ টাকা তুলে দেয়া হয়। ওই এজেন্সীর হাতে। এরপর আইভরিকোস্টে নিয়ে চাকরি না দিয়ে উল্টো তাদেরকে আটকে রেখেছে।

সোমবার সর্বশেষ তার বড় ভাইয়ের কাছ থেকে হোটাসআপে ম্যাসেজ পেয়েছেন। ম্যাসেজে তার বড় ভাই বাঁচার আকুতি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে এক্সিলেন্ট ড্রিম ওভারসীজের সত্ত্বাধিকারী বদিউল আলম খানের দুইটি মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ওই প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মচারী এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পল্টন থানা পুলিশ সূত্র জানায়, এ ব্যাপারে দায়ের করা জিডির বিষয়টি সিআইডিকে অবগত করা হয়েছে। মানবপাচারের অভিযোগটি সিআইডি তদন্ত করছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments