প্রিয় শহর রাজশাহীতে চিরনিদ্রায় শায়িত শামস সুমন

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শামস সুমনকে রাজশাহী নগরের হেতেম খাঁ কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে। ১৯ মার্চ বাদ এশা তৃতীয় এবং রাজশাহীতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে সুমনকে কবরস্থ করা হয়।

গত ১৭ মার্চ ৬১ বছর বয়সে পরিবারকে কাঁদিয়ে চিরবিদায় নিয়েছেন তিনি। অভিনেতার মৃত্যুর সময় তার স্ত্রী লন্ডনে ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে তিনি দেশে আসেন। স্ত্রী দেশে আসার পর রাজশাহী নগরের ঝাউতলা এলাকার মিঠুর মোড় জামে মসজিদে জানাজা শেষে দাফন করা হয়। তার পরিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

তিনি ধানমন্ডির সেন্ট্রাল রোডের বাসায় ভাড়া থাকতেন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়ে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।

শামস সুমন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকাকালীন মৃত্যুবরণ করেন।

শামস সুমনের ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল মঞ্চনাটকের মাধ্যমে। পরে টিভি নাটকে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। অসংখ্য দর্শকপ্রিয় নাটক রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। সুপরিচিত এই অভিনেতা ‘রেডিও ভূমি’তে স্টেশন চিফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান শাখার পরিচালক ছিলেন।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে শামস সুমন অসংখ্য নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘অহংকার’, ‘অনুরাগ’, ‘যদি ভালোবাসো’, ‘এই তো আমাদের বাড়ি’, ‘রাতের অতিথি’, ‘অতন্দ্র প্রহর’ ও ‘খোঁজ’। পাশাপাশি ‘জয়যাত্রা’, ‘বিদ্রোহী পদ্মা’, ‘আয়না কাহিনি’, ‘প্রিয়া তুমি সুখী হও’, ‘চোখের দেখা’ ও ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’সহ একাধিক চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন।

নির্মাতা শহিদুল ইসলাম খোকনের ‘স্বপ্নপূরণ’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments