শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা

সারা দেশে একযোগে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ বছরের সবচেয়ে বড় পাবলিক পরীক্ষাগুলোর একটি। তবে পরীক্ষার প্রথম দিনেই সামনে এসেছে উদ্বেগজনক এক বাস্তবতা—একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩৬ শতাংশ এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এত বড় পরিসরে পরীক্ষার্থী ঝরে পড়ার ঘটনা দেশের উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে প্রায় ১২ লাখ ৭০ হাজার পরীক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। অথচ একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২০ লাখ। অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ৭ লাখ শিক্ষার্থী পরীক্ষার আগেই বিভিন্ন কারণে বাদ পড়েছে বা ফরম পূরণ করেনি।
বাংলা প্রথমপত্র দিয়ে যাত্রা

পরীক্ষার প্রথম দিনে বাংলা প্রথমপত্র অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলে। এমসিকিউ ও সৃজনশীল অংশের মধ্যে কোনো বিরতি রাখা হয়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পরীক্ষার্থীদের উভয় অংশের উত্তর সম্পন্ন করতে হয়েছে। তত্ত্বীয় পরীক্ষা ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। এরপর ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হবে ১৫ আগস্টের মধ্যে।

কেন কমছে পরীক্ষার্থী?
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আর্থিক সংকট, পারিবারিক সমস্যা, কর্মসংস্থানের জন্য পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়া, বিদেশে চলে যাওয়া, বাল্যবিয়ে, শিক্ষাজীবনে অনিয়মিত উপস্থিতি এবং ফরম পূরণের শর্ত পূরণ করতে না পারা। অনেক শিক্ষার্থী প্রথম বর্ষে ভর্তি হলেও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে না। ফলে নিবন্ধিত ও পরীক্ষার্থীর সংখ্যার মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

কঠোর নিরাপত্তায় পরীক্ষা
পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। কেন্দ্রের আশপাশে অপ্রয়োজনীয় লোকসমাগম নিয়ন্ত্রণ, প্রশ্নপত্র নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া, নকল প্রতিরোধ, কেন্দ্রভিত্তিক মনিটরিং এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে, শুধুমাত্র কেন্দ্র সচিব প্রয়োজনীয় যোগাযোগের জন্য সীমিতভাবে মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন।

শিক্ষা বোর্ডের প্রত্যাশা
শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে এবারও পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক নিবন্ধিত শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার কারণ খতিয়ে দেখে ভবিষ্যতে ঝরে পড়ার হার কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে দেশের বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, পরীক্ষার্থীরা সময়মতো কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছেন। অভিভাবকদের মধ্যেও ছিল স্বস্তি ও উৎকণ্ঠার মিশ্র অনুভূতি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জেলা প্রশাসন এবং শিক্ষা বোর্ডের ভ্রাম্যমাণ টিম দিনভর বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করে পরীক্ষার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments