প্রাথমিক বৃত্তি পেল ৭৯ হাজার শিক্ষার্থী

২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে (মেধাবৃত্তি) বৃত্তি পেয়েছে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন এবং সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ৪৬ হাজার ২৮১ জন। বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ৫৪ দশমিক ৭১ শতাংশই ছাত্রী। জেলা ভিত্তিক সাফল্যে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা জেলা। অন্যদিকে সবচেয়ে কম বৃত্তি পেয়েছে বান্দরবান জেলা।

রোববার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রী ড. এ এন এম এহসানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বিবি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্র ৩৫ হাজার ৮৯২ জন (৪৫ দশমিক ২৯ শতাংশ) এবং ছাত্রী ৪৩ হাজার ৩৫৪ জন (৫৪ দশমিক ৭১ শতাংশ)। জেলা ভিত্তিক তালিকায় ঢাকা জেলায় সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৬৮২টি বৃত্তি পাওয়া গেছে। বিপরীতে সবচেয়ে কম ১৮৮টি বৃত্তি পেয়েছে বান্দরবান জেলা।

এবার ৮২ হাজার ৫০০ জনকে বৃত্তি দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও সব কোটা পূরণ হয়নি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৮২ জন শিক্ষার্থী, যা নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর ৬৫ দশমিক ১১ শতাংশ। এর মধ্যে ছাত্র ছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৪১ জন এবং ছাত্রী ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪১ জন।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কেন এত শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি, তা সরকার গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। ভবিষ্যতে অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে আগামী ব্যাচ থেকে প্রাথমিক বৃত্তির অর্থ দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমানে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্তরা এককালীন ২২৫ টাকা ও মাসিক ৩০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা এককালীন ২২৫ টাকা ও মাসিক ২২৫ টাকা পেয়ে থাকে। তবে ২০২৬ সালের বৃত্তি পরীক্ষা থেকে ট্যালেন্টপুলের শিক্ষার্থীরা এককালীন ৪৫০ টাকা ও মাসিক ৬০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা এককালীন ৪৫০ টাকা ও মাসিক ৪৫০ টাকা পাবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃত্তির ফল অনলাইনের আইপিইএমআইএস (IPEMIS) পোর্টাল এবং মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে জানা যাবে।

উল্লেখ্য, ফল প্রকাশের আগেই ওয়েবসাইটে ঢাকা বিভাগের কয়েকটি জেলার ফল অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক সহকারী মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পরিসংখ্যানে আরও দেখা গেছে, পরীক্ষায় উপস্থিতির হার সবচেয়ে বেশি ছিল ঠাকুরগাঁও জেলায় (৮১ দশমিক ৬১ শতাংশ)। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি অনুপস্থিতি ছিল নারায়ণগঞ্জ জেলায়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি প্রাপ্তিতে চট্টগ্রাম জেলা শীর্ষে এবং সবচেয়ে কম বৃত্তি পেয়েছে বান্দরবান জেলা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments