আইএসআইএসসির অগ্রগতি পর্যালোচনা কর্মশালা
অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণের মান নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সমন্বিত ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একই প্রশিক্ষণার্থী যাতে একাধিক প্রকল্পে বারবার প্রশিক্ষণ নিতে না পারেন এবং একই ধরনের প্রশিক্ষণের অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি বন্ধ করা যায়, সে জন্য প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচনের আগে তথ্য যাচাই ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পর্যটন অডিটোরিয়ামে ইনফরমাল সেক্টর ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিলের (আইএসআইএসসি) আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘আইএসআইএসসি–ইবিটি বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা কর্মশালা’য় বক্তারা এসব কথা বলেন। অ্যাসেট প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়নাধীন এন্টারপ্রাইজভিত্তিক প্রশিক্ষণ (ইবিটি) কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়ন, সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া বলেন, প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি নয়, বরং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতা, মূল্যায়নে সফলতা এবং কর্মসংস্থানই প্রকৃত সাফল্যের সূচক। তিনি বলেন, একই ব্যক্তি যেন একাধিক প্রকল্পে একই ধরনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে না পারেন, সেজন্য তথ্য যাচাই ও সমন্বিত ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় ও জাতীয় শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। যেখানে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে বা কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত, সেখানে নতুন প্রশিক্ষণ শুরুর আগে চাহিদা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন আইএসআইএসসির চেয়ারম্যান মির্জা নুরুল গনি শোভন। তিনি বলেন, অনানুষ্ঠানিক খাতের বিপুল জনগোষ্ঠীর বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকলেও স্বীকৃত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সীমিত। এন্টারপ্রাইজভিত্তিক প্রশিক্ষণ সেই ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ জন্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় আরও জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী বলেন, অনানুষ্ঠানিক খাতের প্রশিক্ষণ হলেও মানদণ্ডে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। প্রশিক্ষণস্থলে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থীদের নিবন্ধন, উপস্থিতি, মূল্যায়ন ও কর্মসংস্থানের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) সামসুর রহমান খান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন, নিয়মিত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং আর্থিক ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
অ্যাসেট প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী মীর জাহিদ হাসান বলেন, এন্টারপ্রাইজভিত্তিক প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য বাস্তব কর্মপরিবেশে দক্ষতা অর্জন এবং প্রশিক্ষণ শেষে চাকরি, শিক্ষানবিশি বা স্বকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি। এজন্য প্রশিক্ষণের শুরু থেকেই সম্ভাব্য নিয়োগদাতা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র চিহ্নিত করার পরামর্শ দেন তিনি।
কর্মশালায় উপস্থাপিত অগ্রগতি প্রতিবেদনে জানানো হয়, দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫৫৯টি ব্যাচে ১৩ হাজার ৪১৬ জন প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি হন। তাঁদের মধ্যে ১৩ হাজার ৩৬৩ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। মূল্যায়নে অংশ নেওয়া ১১ হাজার ৭৩৬ জনের মধ্যে ৯ হাজার ৭৯৮ জন সক্ষম ঘোষিত হয়েছেন এবং ৬ হাজার ৭৬০ জন কর্মসংস্থানে যুক্ত হয়েছেন।
এছাড়া তৃতীয় পর্যায়ে ১ হাজার ১৯৪টি সক্রিয় ব্যাচে ২৮ হাজার ৬৫৬ জন প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৮ হাজার ৬৮৮ জনের মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে এবং ১৬ হাজার ৮১৯ জন সক্ষমতা অর্জন করেছেন। অন্যদিকে চতুর্থ পর্যায়ে ১ হাজার ৭৪০টি অনুমোদিত ব্যাচে ৪১ হাজার ৭৬০ জন প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি হয়েছেন। এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৬৬৮ জনের মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে ৪ হাজার ২১১ জন সক্ষম ঘোষিত হয়েছেন।
কর্মশালায় প্রশিক্ষণের অগ্রগতি, মূল্যায়ন, কর্মসংস্থান, তথ্য যাচাই, বিল পরিশোধ, প্রশিক্ষণের মান, নিরাপত্তা এবং মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, অ্যাসেট প্রকল্প, আইএসআইএসসি, প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।



