ফুটপাতে দোকান বসানো ও চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ
রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ফুটপাতে দোকান বসানো ও সেখান থেকে টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে নিউমার্কেট থানা যুবদল ও ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী এবং নিউমার্কেট থানা যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মী রয়েছেন।
আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া আহতদের মধ্যে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স খন্দকার, সুমন সিকদার, আহ্বায়ক সদস্য সাগর খান, সায়মন ইসলাম, সদস্য মুসফিকুর রহিম, জিহাদুল ইসলাম, শাকিব হাসান ও ইমরান হোসেনের নাম জানা গেছে।
অন্যদিকে নিউমার্কেট থানা যুবদলের চঞ্চল গ্রুপের জাকির (৫০), জাকির (৩৮), সুমন (২৮), শাহ আলম (২৮), ইদ্রিস (৪৫) ও রাকিব (৩২) আহত হয়ে ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
যেভাবে সংঘর্ষের সূত্রপাত
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিউমার্কেটের বলাকা সিনেমা হলের সামনে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাতে দোকান বসানো এবং এসব দোকান থেকে টাকা তোলাকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। একপর্যায়ে তা প্রকাশ্য সংঘর্ষে রূপ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্যসচিব কে এম চঞ্চলের লোকজন ওই এলাকায় হকারদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করতেন।
অন্যদিকে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা ওই এলাকায় ফুটপাতে দোকান বসাতে গেলে আগে থেকেই হকার বসিয়ে টাকা আদায় করা নিয়ে বিরোধ তৈরি হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
লাঠি-ছুরি নিয়ে হামলার অভিযোগ
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একপর্যায়ে যুবদল নেতা চঞ্চলের লোকজন ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালান। হামলায় লাঠি ও ছুরি ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার খবর ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব মিল্লাত হোসেনের অনুসারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে শতাধিক নেতাকর্মী ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যান।
এরপর নিউমার্কেটের প্রিয়াঙ্গন মার্কেটের পাশের বসুন্ধরা গলিতে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ বাধে। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় হামলা-পাল্টা হামলার পাশাপাশি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
দুই পক্ষের ১৪ জন আহত
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের কয়েকজন প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে তাদের কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রিন্স খন্দকার, সুমন সিকদার, সাগর খান, সায়মন ইসলাম, মুসফিকুর রহিম, জিহাদুল ইসলাম, শাকিব হাসান ও ইমরান হোসেনের নাম পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে যুবদলের চঞ্চল গ্রুপের জাকির, জাকির, সুমন, শাহ আলম, ইদ্রিস ও রাকিবও আহত হয়ে ঢামেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
চাঁদা আদায়ের অভিযোগ
সংঘর্ষের অন্যতম কারণ হিসেবে ফুটপাতের দোকান থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ সামনে এসেছে।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাতে বসা হকারদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করা হয়। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা রয়েছে।
ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী ওই এলাকায় ফুটপাতে দোকান বসাতে গেলে আগে থেকে হকার বসানো এবং তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
তবে কারা নিয়মিত টাকা আদায় করছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—এ বিষয়ে অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের বক্তব্য
নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে অভিযোগ পাওয়া গেছে যে নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্যসচিব চঞ্চল ও তার লোকজন প্রথমে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছেন।
তিনি বলেন, “প্রথমে নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্যসচিব চঞ্চল ও তার লোকজন ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছেন—এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে দুই পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।”
পুলিশ ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে বলেও জানান তিনি।
একই দলের দুই সংগঠনের সংঘর্ষে প্রশ্ন
ছাত্রদল ও যুবদল একই রাজনৈতিক দলের সহযোগী সংগঠন। ফলে একই দলের দুই অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ফুটপাতের দোকান বসানো ও টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা নিউমার্কেটে এ ধরনের সংঘর্ষে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়। পাশাপাশি ফুটপাতের দোকান থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কোনো পক্ষ যদি ফুটপাতের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ বা টাকা আদায়ের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা বা গ্রেপ্তারের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশি তদন্তে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হামলায় জড়িতদের পরিচয় আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।



