রায়নগরে তিন হত্যাকাণ্ড: নিরপেক্ষ তদন্তে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের মুখোমুখি করার দাবি

সিলেট নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় বাবা-মা ও গৃহপরিচারিকা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন নিহত দম্পতির প্রবাসী চার সন্তান। একই সঙ্গে তদন্তের নামে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং কোনো অপরাধী প্রভাবশালী হওয়ার কারণে আইনের আওতা এড়াতে না পারেন, তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সোমবার (১৭ আগস্ট) নিহত আবদুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগমের রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান তাদের সন্তান আরিফ ইফতেখার, তাহমিনা সাত্তার এনি, সেলিনা সুলতানা শিখা ও তারানা সুলতানা শিমু।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, চার ভাই-বোনই প্রবাসে বসবাস করেন। তবে সিলেটই তাঁদের জন্মভূমি, শিকড় এবং সবচেয়ে আপন মানুষদের ঠিকানা। বাবা-মা ও পরিবারের সঙ্গে থাকা তরুণ গৃহপরিচারিকাকে একসঙ্গে হারানোর শোক কোনো ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। বাবা-মাকে হারানোর কষ্ট তাঁদের সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে। একই সঙ্গে গৃহপরিচারিকার মর্মান্তিক মৃত্যুও তাঁদের হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে।

তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তারপরও দেশের আইন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর তাদের আস্থা রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।

চার দাবি নিহতদের সন্তানদের

নিহতদের সন্তানরা বলেন, তাদের একমাত্র প্রত্যাশা তিন হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা। তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।

একই সঙ্গে তারা বলেন, তদন্তের নামে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি করা যাবে না। আবার কোনো অপরাধী প্রভাবশালী হওয়া কিংবা অন্য কোনো কারণে যেন আইনের আওতা থেকে বেরিয়ে যেতে না পারেন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

তাদের চারটি দাবির মধ্যে রয়েছে—হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

তারা বলেন, “নিরপেক্ষ ও পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের মুখোমুখি করতে হবে এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অভিযোগ নয়

নিহতদের সন্তানরা বলেন, কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অভিযোগ বা প্রতিহিংসার কথা বলতে তারা সংবাদ সম্মেলনে আসেননি। তারা চান, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসুক, প্রকৃত অপরাধীরা গ্রেপ্তার হোক এবং আইনের মাধ্যমে তাদের বিচার নিশ্চিত করা হোক।

তারা আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর সিলেটের রাজনৈতিক, সামাজিক ও বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও সাংবাদিকসহ অনেকে তাদের সঙ্গে দেখা করেছেন, ফোন করেছেন এবং সমবেদনা জানিয়েছেন। এ জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তারা।

গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাইলেন

সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নিহতদের সন্তানরা বলেন, গণমাধ্যম হত্যাকাণ্ডটি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে এবং ন্যায়বিচারের দাবি সামনে এনেছে। ভবিষ্যতেও তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার বিষয়ে জনগণকে অবহিত করতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চান তারা।

একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে তারা বলেন, নিহত বাবা-মা ও গৃহপরিচারিকার কোনো ছবি সংবাদ, অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুক বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ বা প্রচার না করতে। বিষয়টি পরিবারের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও বেদনাদায়ক উল্লেখ করে তারা সবার মানবিক বিবেচনা কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে নিহত তিনজনের আত্মার শান্তির জন্য সবার কাছে দোয়া চান চার ভাই-বোন। একই সঙ্গে মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান তারা।

তারা বলেন, “সত্য কখনো চাপা পড়ে থাকে না। সময় লাগতে পারে, কিন্তু সত্য একদিন প্রকাশিত হবেই।”

যেভাবে উদ্ধার হয় তিনজনের মরদেহ

উল্লেখ্য, গত বুধবার বেলা ১১টার দিকে সিলেট নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে আবদুস সাত্তার (৯০), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং তাঁদের গৃহপরিচারিকা তাহমিনার (২০) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত তিনজনের শরীরেই ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments