খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, স্থানীয় প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তালবীজ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ১০ লাখ দেশি প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের বীজ বপন করা হবে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক, গ্রিন কোয়ালিশন ও তালন্দ আনন্দমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের যৌথ আয়োজনে তালন্দ গ্রামের দুই কিলোমিটার সড়কের পাশে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। জাতীয় পদকপ্রাপ্ত স্বশিক্ষিত কৃষি গবেষক নূর মোহাম্মদ এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
এ সময় সড়কের পাশে ২ হাজার তালবীজ, ১ হাজার দেশি বড়ইবীজ, ৫০০ নিমবীজ, ১০০ তেঁতুলবীজ, ২০০ দেশি খেজুরবীজ, ১০০ কাঠালবীজ ও প্রায় ৪০০ জামবীজ বপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বারসিকের নৃবিজ্ঞানী ও আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম, তালন্দ উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক মৃণাল কুমার পাল, মনিরা খাতুন ও জয়ন্তী রানী, বারসিক কর্মকর্তা অমৃত কুমার সরকার ও উত্তম কুমার সরকার এবং বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি আতিউর রহমানসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
কৃষক নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘বরেন্দ্র অঞ্চলে একসময় প্রচুর তাল ও খেজুরগাছ ছিল। এসব গাছ পরিবেশবান্ধব এবং মাটির ক্ষয়রোধে সহায়ক। এসব গাছে নানা জাতের পাখি বাসা বাঁধে। বিশেষ করে বাবুই পাখির বাসা দেখা যেত। বর্তমানে দেশি গাছ কমে যাওয়ায় পাখিসহ মানুষের খাদ্যবৈচিত্র্যও কমেছে। পাখির বাসা তৈরির জায়গাও সংকুচিত হয়েছে।’
তিনি বরেন্দ্র অঞ্চলে তাল ও খেজুরগাছ কাটা বন্ধের দাবি জানান।
শিক্ষক মৃণাল পাল বলেন, গাছ কমে যাওয়ায় বরেন্দ্র অঞ্চলে তাপমাত্রা বেড়েছে এবং গড় বৃষ্টিপাত কমেছে। তিনি এ অঞ্চলের বড় ও শতবর্ষী গাছ সংরক্ষণের দাবি জানান।
বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। বিদেশি প্রজাতির পরিবর্তে এ অঞ্চলে স্থানীয় ও দেশি প্রজাতির ফলের বীজ বপনে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষিপ্রতিবেশ অঞ্চলে বৃক্ষবৈচিত্র্য রয়েছে। এসব বৃক্ষ, প্রাণবৈচিত্র্য ও খাদ্যসংস্কৃতিকে টেকসই করে। এই বৈচিত্র্য কমে গেলে পরিবেশ, বাস্তুসংস্থান ও খাদ্যব্যবস্থায় সংকট তৈরি হবে।



