দক্ষিণ কোরয়িার হুন্দাই রোটেম কোম্পানি থেকে রেলের ৩০ টি মিটারগেজ (এমজি) লোকোমোটিভ ইঞ্জিন ক্রয়ে সরকারের ৩২৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও ক্ষতি করার অভিযোগে রেলওয়ের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) শামসুজ্জামানসহ তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুদকের ঢাকা সমন্বিত কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
আসামিরা হলেন-বাংলাদেশ রেলওয়ের সাবেক মহাপরিচালক শামসুজ্জামান, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (আরএস) মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী এবং সাবেক এডিজি (ডেভেলপমেন্ট) মোহাম্মদ হাসান মনসুর।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গের মাধ্যমে অসৎ উদ্দেশ্যে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণা, জাল-জালিয়াতির আশ্রয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই রোটেম কোম্পানি থেকে ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ ইঞ্জিন ক্রয় সংক্রান্তে টেন্ডারের স্পেসিফিকেশন ও সম্পাদিত ক্রয় চুক্তি লঙ্ঘন করে লোকোমোটিভ ইঞ্জিনের কতিপয় ক্যাপিটাল কম্পোনেন্টস পরিবর্তন এবং পিএসআই সনদ ছাড়া লোকোমোটিভ ইঞ্জিনগুলো স্পেসিফিকেশন ও চুক্তি অনুযায়ী সঠিক হিসেবে উপস্থাপন করে। এমনকি তদারককারী প্রতিষ্ঠানের মতামত ছাড়াই ইঞ্জিন ক্রয় দেখিয়ে ১ কোটি ৩৬ লাখ ৫৬ হাজার ১৯২ টাকা আত্মসাৎ করে।
অন্যদিকে নি¤œমানের লোকোমোটিভ ইঞ্জিন ক্রয় করে সরকারের ৩২২ কোটি ৬৮ লাখ ৮৯ টাকার ক্ষতি সাধন করেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দ-বিধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে রেলের ৩০ টি এমজি লোকোমোটিভ দেশে আসে। ৩ হাজার সিরিজের এই লোকোমোটিভগুলোর ১৫ টি ইতোমধ্যে বিকল হয়ে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এমজি লোকোমোটিভ কারখানায় পড়ে আছে। এর প্রেক্ষিতে রেলের মিটারগেজ লোকোমোটিভের সঙ্কট তৈরি হয়েছে।



