বাংলাদেশে কর্নিয়াজনিত কারণে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ অন্ধত্বের শিকার। আক্রান্তদের বেশির ভাগের বয়স ১৫ বছরের নিচে। এসব মানুষের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনতে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের সুযোগ থাকলেও এ ক্ষেত্রে এখনও অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। দেশে এখন পর্যন্ত মাত্র ২০টি কর্নিয়া সংগ্রহ এবং ১৬টি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অথচ বর্তমানে দেশে প্রায় ২৫ হাজার কর্নিয়ার চাহিদা রয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মিলনায়তনে বাংলাদেশে কর্নিয়াজনিত অন্ধত্ব নিরসনে ‘কর্নিয়া সংগ্রহ’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় এসব তথ্য জানানো হয়। সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় কর্নিয়াজনিত অন্ধত্ব দূরীকরণে মরনোত্তর চক্ষুদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, মৃত্যুর আগে রোগীর স্বজনদের কাউন্সেলিং করা, মৃত্যুর পর দ্রুত কর্নিয়া সংগ্রহ এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ ও প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে কর্নিয়াজনিত অন্ধত্বে আক্রান্ত অনেক মানুষের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব। এ জন্য মরনোত্তর চক্ষুদান সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি চিকিৎসকদেরও এ বিষয়ে আরও সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, দেশে কর্নিয়ার ব্যাপক চাহিদা থাকলেও সংগ্রহের পরিমাণ অত্যন্ত কম। ফলে কর্নিয়াজনিত অন্ধত্বে আক্রান্ত বিপুলসংখ্যক মানুষ দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মরনোত্তর চক্ষুদানের বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা তৈরি করা গেলে এ সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতি রংপুর জোনের সভাপতি ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. রিপন সরকারের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বক্তব্য দেন রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আনোয়ার হোসেন, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জহুরুল হক, হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান, সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফজলুল হক কাসেম, সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. তোসাদ্দেক হোসেন সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ মনির হোসেন, সহসভাপতি অধ্যাপক ডা. সাইদুর রহমান খান, গণযোগাযোগ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. সালাহউদ্দিন আল আজাদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অধ্যাপক ডা. আরাফাত রহমান পাভেল এবং কার্যনির্বাহী সদস্য ডা. শাহরিয়ার রিজভী।
এ ছাড়া কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন সন্ধানীর সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. নুরুল হাসান বাবু, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মঞ্জুরুল করিম প্রিন্স, অধ্যাপক ডা. তাপস বোস, রোটারি ক্লাব ঢাকা সেন্ট্রালের সংগঠক মিজানুর রহমান ভূঁইয়া ও এসএম শওকত হোসেন।
সন্ধানী রংপুর মেডিকেল কলেজ ইউনিটের আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসকরা অংশ নেন। কর্মশালায় ‘আই রিকভারি ওয়েট ল্যাব’-এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
চিকিৎসকরা বলেন, কর্নিয়াজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধ ও দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে কর্নিয়া সংগ্রহ ও প্রতিস্থাপনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা জরুরি। পাশাপাশি মরনোত্তর চক্ষুদানকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে পরিবার ও সমাজের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।



